13. দায়ূদ তাঁর লোকদের বললেন, “তোমরা প্রত্যেকে কোমরে তলোয়ার বেঁধে নাও।” এতে তারা প্রত্যেকেই কোমরে তলোয়ার বেঁধে নিল আর দায়ূদও তা-ই করলেন। তারপর প্রায় চারশো লোক দায়ূদের সংগে গেল আর দু’শো লোক রইল মালপত্র পাহারা দেবার জন্য।
14. তখন একজন চাকর নাবলের স্ত্রী অবীগলকে বলল, “মরু-এলাকা থেকে দায়ূদ আমাদের মনিবের কাছে তাঁর শুভেচ্ছা জানাবার জন্য কয়েকজন লোক পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের মনিব তাদের ভীষণ গালাগালি করেছেন।
15. ঐ লোকগুলো কিন্তু আমাদের সংগে খুব ভাল ব্যবহারই করেছিল। আমরা যতদিন মাঠের মধ্যে তাদের কাছে ছিলাম তারা আমাদের সংগে খারাপ ব্যবহারও করে নি এবং আমাদের কোন জিনিসও চুরি হয় নি।
16. আমরা যতদিন তাদের কাছে থেকে ভেড়া চরিয়েছি ততদিন দিনরাত তারা আমাদের চারপাশে রক্ষা-দেয়ালের মত ছিল।
17. এখন আপনি কি করবেন তা ভেবে দেখুন, কারণ আমাদের মনিব ও তাঁর সমস্ত লোকজনদের ভীষণ ক্ষতি করবার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মনিব এমন একজন বদ্মেজাজী লোক যে, তিনি কারও কথা শোনেন না।”
18. এই কথা শুনে অবীগল আর দেরি করলেন না। তিনি দু’শো রুটি, চামড়ার দু’থলি আংগুর-রস, পাঁচটা ভেড়ার মাংস, পাঁচ বস্তা ভাজা শস্য, একশো তাল কিশমিশ এবং দু’শো তাল ডুমুর নিয়ে গাধার পিঠে চাপালেন।
19. তারপর তিনি তার চাকরদের বললেন, “তোমরা আমার আগে আগে যাও, আমি তোমাদের পিছনে পিছনে আসছি।” এই সব কথা কিন্তু তিনি তাঁর স্বামী নাবলকে জানালেন না।
20. অবীগল যখন তাঁর গাধায় চড়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে যাচ্ছিলেন তখন দায়ূদও তাঁর লোকদের নিয়ে আর একটা ঢাল বেয়ে তাঁর দিকেই নেমে আসছিলেন। তাতে অবীগল তাঁদের সামনে গিয়ে পড়লেন।
21. এর কিছু আগে দায়ূদ বলছিলেন, “মিথ্যাই আমি এই লোকটার সব কিছু সেই মরু-এলাকায় পাহারা দিয়ে মরেছি যাতে তার কোন কিছু চুরি না হয়। আমি তার উপকার করেছি কিন্তু সে তার বদলে আমার অপকার করেছে।
22. ঈশ্বর যেমন দায়ূদের শত্রুদের নিশ্চয়ই ভীষণভাবে শাস্তি দেবেন তেমনি আমিও নিশ্চয়ই কাল সকাল পর্যন্ত নাবলের বাড়ীর একটি পুরুষ লোককেও বাঁচিয়ে রাখব না।”
23. অবীগল দায়ূদকে দেখে তাড়াতাড়ি করে তাঁর গাধার পিঠ থেকে নামলেন এবং দায়ূদের সামনে মাটিতে উবুড় হয়ে তাঁকে প্রণাম করলেন।
24. তারপর তিনি দায়ূদের পায়ের উপর পড়ে তাঁকে বললেন, “হে আমার প্রভু, সব দোষই আমার। দয়া করে আপনার দাসীকে দু’টা কথা বলতে দিন এবং তার কথা আপনি শুনুন।
25. আমার প্রভু যেন সেই জঘন্য লোকের, অর্থাৎ নাবলের কথা না ধরেন। তার নামও যেমন সেও তেমন। তার নামের অর্থ একগুঁয়ে, আর তার মধ্যে রয়েছে শুধু একগুঁয়েমী। আমার প্রভু যে সব লোক পাঠিয়েছিলেন তাদের সংগে আপনার এই দাসীর দেখা হয় নি।
26. “হে আমার প্রভু, জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্য ও আপনার প্রাণের দিব্য যে, আপনার শত্রুদের এবং যারা আপনার ক্ষতি করতে চায় তাদের দশা নাবলের মত হবে, কারণ সদাপ্রভু আপনাকে রক্তপাত করতে দেন নি এবং নিজের হাতে প্রতিশোধ নিতে দেন নি।